মো. ইব্রাহীম খলিল, চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ভোলার চরফ্যাশনে পৃথক তিন স্থানে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচার ত্বরান্বিত, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদ কার্যকর করতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে দুলারহাট, শশিভূষণ ও দক্ষিণ আইচা থানার দলীয় কার্যালয় থেকে পৃথকভাবে গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা ব্যানার-ফেস্টুনে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয় এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
শশিভূষণে অনুষ্ঠিত গণমিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ মীর মোহাম্মদ শরীফ হোসাইন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কাসেম, অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ মহিবসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। সেই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে বিচারহীনতার অবসান এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
বক্তারা জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা, গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত আহ্বানের দাবি জানান।
এ সময় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচি শেষ হলেও বক্তারা দাবি আদায়ে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
